যে কোন কাজ সম্পাদনায় সমালোচনা আকৃষ্ট হবেই। নিজ কাজে বা কর্মক্ষেত্রে সমালোচনা অনেক ক্ষেত্রেই সহজে গ্রহন করা যায় না। যে কোন সমালোচনা ব্যক্তিগতভাবে না নিতে পারাটা কিছুটা কঠিন, পরিণত বয়েসে নিজ কর্মক্ষেত্রে এটা সামলে নেয়াটাই একটা পরীক্ষা যেন।
সমালোচনা বলতে আমাদের নেতিবাচক দিকগুলোর খোলামেলা ও যথোপযুক্ত আলোচনা বোঝায়। নিজ কর্মের ক্ষেত্রে নিজের সমালোচনা করা এবং ও অন্যের সমালোচনা গ্রহণের অভ্যাস সাফল্যের একটি চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আসুন জেনে নিই সমালোচনাকে উন্নতির ক্ষেত্রে কি কি উপায়ে কাজে লাগানো যেতে পারে।

যা বলা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন

যে কোনো ধরনের সমালোচনা সহ্য করা কঠিন। তবে যা বলা হচ্ছে সঠিকভাবে শোনাটা জরুরি কেননা এভাবে নিজের কোন ত্রুটি থাকলে তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া যায় এবং শুধরানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়। আর ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে যদি বুঝতে পারেন যে কারো করা সমালোচনায় কোন প্রকার যৌক্তিকতা নেই, তাহলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে স্বাভাবিকভাবে তাদের এড়িয়ে চলুন।

সুতরাং ভাল করে শুনুন, সমালোচনাগুলো কি যুক্তিযুক্ত কিনা। আর তা বুঝেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করুন।

প্রতিবাদ করা থেকে বিরত থাকুন

সমালোচনার সঙ্গে মোকাবেলা করা আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সেক্ষেত্রে যদি দেখতে পান, যা নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে তার বিপরীতে কথা বলা আপনাকে মানাচ্ছে না, তখন প্রতিবাদ না করাটাই শ্রেয়। কারণ যে কোন কাজেই অন্যদের দৃষ্টিকোণ এবং মতামতগুলোও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে মাথা গরম না করে সবার কথা বুঝে নিজ বিবেচনায় কাজ করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আত্মবিশ্বাস রাখুন

নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। নিজেকে জানুন, আস্থাশীল হউন নিজের প্রতিই। যখন আপনি জানতে পারবেন যে আপনি কে, তখন অন্যের সমালোচনা আপনি সহজেই নিতে শিখবেন। মনে রাখুন যে সমালোচনা আমাদের জীবনের আরেকটি অংশবিশেষের নাম। তাই যত বেশি এটি ইতিবাচকভাবে মেনে নিতে পারবেন জীবনযাপন ততই সহজ হয়ে উঠবে।

সমালোচকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন

নিন্দুকদের সবচেয়ে বড় উপকারী বন্ধু ভেবে নিন। সেই ছোটবেলা হতেই কিন্তু সবাই পড়েছি, “স্পষ্টভাষী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা ভালো”। এটি প্রত্যেকের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা।

কারও নেতিবাচক সমালোচনা শুনে আগেই ক্ষিপ্ত না হয়ে খুব দ্রুত সেটিকে নিজের মনের মধ্যে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করুন এবং সে সম্পর্কিত বিষয়বস্তু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। যদি দেখেন সেগুলো যুক্তিপূর্ণ তাহলে নিজেকে শুধরে নিন। আর সাথে সাথে সমালোচনাকারীর প্রতি মৃদু হেসে ধন্যবাদ জানান।

সঠিক পথে নিজেকে সংশোধন করুন

আমাদের জীবনে উন্নতির জন্য গঠনমূলক সমালোচনার কোন তুলনা হয় না। যখনই সমালোচনার মুখোমুখি হবেন সেটি নিয়ে দুঃখ পেয়ে বিমর্ষ হবার বা প্রতিবাদীররূপ ধারন করে সময় নষ্ট করার কিছু নেই। বরং সমালোচনাগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়ে সেভাবে নিজেকে সংশোধন করায় সচেষ্ট হোন। সমালোচকের উপদেশগুলোকে মনে করে সেগুলোকে কাজে লাগান।

সমালোচকদের সাথে নিজেকে নিয়ে পর্যালোচনা করুন

সমাপ্ত করা কাজের ক্ষেত্রেও পুনরায় কাজটি বারবার দেখে নিন। নিজের কর্মকর্তাদের সাথে পর্যালোচনা করুন, প্রয়োজনে সর্বদাই যারা আপনাকে সমালোচনা করে থাকে তাদের কাছেই যাবেন। কারন মনে রাখবেন নিন্দুকের নিন্দার মাধ্যমেই কাজের সর্বোচ্চটা আপনি করতে পারবেন। ধরেই নিবেন যে তারা সমালোচনার মোড়কে মূলত আপনার উপকারই করছেন।

ভিত্তিহীন সমালোচনাগুলো পাশ কাটিয়ে যান

যখন কেউ আপনাকে নিয়ে সমালোচনা করে তখন সেটাকে এড়িয়ে যাওয়া খুব কষ্টকর একটা কাজ। কিন্তু সব সমালোচনাই যে গ্রহণযোগ্য হবে তা নয়।  একদল সর্বদাই আপনার পিছনে লেগে থাকবেই। সেক্ষেত্রে যার তার সমালোচনা গায়ে না মেখে পাশ কাটিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়

“নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভাল,

যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।”

জীবনে অগ্রসরের জন্য গঠনমূলক সমালোচনার কোনো তুলনা হয়না। ভিত্তিহীন সমালোচনা এড়িয়ে প্রকৃত সমালোচনা গ্রহণ করে নিজের নেতিবাচক দিকগুলো ইতিবাচক গুণে রূপান্তরিত করুন।