মানুষ অভ্যাসের দাস। এখন সেটা হতে পারে ভালো অভ্যাস বা বদ অভ্যাস। বই পড়ার কাজ টা যেমন খুব ভালো একটি অভ্যাস, ঠিক তেমনি অনেক মজার একটি কাজ ও বটে। কিন্তু সেই পড়াটাই যদি আমাদের পাঠ্যবই এর পড়া হয় তবে সেটা আর মজার হয়না সবসময়।

একটি অধ্যায়ের পুরো বিষয়বস্তু বুঝে বুঝে পড়া যেমন খুব সময় সাপেক্ষ একটা ব্যাপার, ঠিক তেমনি সে কাজ টা কখনই মজা করে করা যায় না। আপনাকে ভালো ফলাফল করতে হলে এমনিতেও পুরো অধ্যায় টিকে পড়তে হবে কিন্তু এই কাজ টা কেমন হয়, যদি অন্য কোনভাবে এই অধ্যায়ের পুরো বিষয়টার মুলভাব টাকে খুব কম সময়ে বুঝে নেয়া যায়?

মূলত যারা এই লেখাটি পড়ছেন তাদের জন্য আশা করছি অনেক কাজের কিছু কথা বলতে যাচ্ছি আমি। আমরা এখানে কথা বলছি বই দাগিয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে। তবে সবকিছু দাগানো নয়, কিছু সহজ নিয়ম অনুসরণ করে পুরো অধ্যায়টির মুল বিষয়বস্তু গুলোকে দাগানোর কথা বলছি। এই কাজটি আপনাকে অন্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত আপনার পড়া শেষ করতে সাহায্য করবে।

এক কাজ করুন তো, আপনার হাতের কাছের যেকোনো একটি পাঠ্যবই নিয়ে সেই বই টির যেই অধ্যায় টি আপনি আজ পড়বেন কাল পড়বেন এই বলে গড়িমসি করছেন, ঠিক সেই অধ্যায়টির উপর একটু হাল্কাভাবে নিজের চোখ বুলান। দেখুন তো এই অধ্যায়ে কি এমন অনেকগুলো অংশ আছে না যেগুলোর নিজেদের একটা আলাদা শিরোনাম আছে? কিছু ছক এবং চিত্র রয়েছে, বিভিন্ন ধরণের ব্যাখ্যা আছে যেগুলো আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে আসলে অধ্যায়টির মুল বিষয়বস্তু কি।

পরবর্তী সময়ে যখন আপনি দ্রুত এই অধ্যায়টি পড়তে যাচ্ছেন, এক কাজ করুন, অধ্যায়টির পুরো সব অংশের লেখাগুলো পড়বেন না। শুধু বিষয়গুলোর শিরোনাম গুলো পড়ুন, বুঝার চেষ্টা করুন ঐ শিরোনামের নিচের লেখাগুলো আসলে মূলত কি নিয়ে লেখা। কারণ ঐ শিরোনামের নিচের যে বড় বড় ছক আর বড় আকারের ব্যাখ্যা আছে সবগুলো আপনাকে হয়ত পরে কোনভাবে পড়ে বুঝতে হবে, কিন্তু মুল বিষয়টি জেনে গেলে আপনার পড়া প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ভাগ শেষ হয়ে যাবে।

আপনার যদি কোন সাহায্যের দরকার হয়, নিচের অংশের ঐ বড় লেখা গুলোর মাঝখানে একটু ঘুরে দেখুন, আসলে কি বোঝানো হয়েছে এখানে? এর মধ্যেও আবার আপনি কিছু বিভক্ত শিরোনাম পাবেন যেগুলো মুল শিরোনামের বা মুল বিষয়বস্তুর অংশ হিসেবে ভাগ করে দেয়া আছে।

ঐ শিরোনামগুলো পরে দেখুন এবং দরকার হলে সেই অনুচ্ছেদের প্রথম লাইন টি পড়ে দেখুন নিজের সুবিধার জন্য। শিরোনামগুলো এবং মুল লাইন গুলোকে দাগিয়ে নিন। যখন আপনি পড়া শেষ করবেন এই পুরো কাজটাকে নিজের মত একটা নাম দিয়ে দিন, যেটা শুধু মাত্র আপনি নিজেই করে থাকেন একটি বিশেষ কাজের মত করে। এটা আপনার উদ্ভাবন করা অভিনব একটি পদ্ধতি।

পড়া শেষ হলে আপনি নিজেই লক্ষ্য করবেন যে আপনি খুব কম সময়ে এবং সহজেই এই অধ্যায়টির মুল বিষয়বস্তু বুঝতে পেরেছেন।

নিজের পড়াগুলোকে এভাবে ছোট করে ফেলা, এটা কি কোন ধরণের বদ অভ্যাস বা অনৈতিক কাজ? আমার উত্তর হচ্ছে, মোটেই না। কারণ আপনি অবশ্যই একজন ভালো শিক্ষার্থী এবং পরবর্তীতে আপনি অবশ্যই মুল অংশ গুলো পড়ে নিবেন খুব সহজেই। তখন পড়াটা খুব সহজ হবে কেন জানেন?

আপনি তো মুল বিষয় আগেই জেনে নিয়েছেন, এখন শুধু ব্যাখ্যা আর ছক গুলো দেখে দেখে বিষয়টার জ্ঞান আরো মজবুত করে নিতে পারবেন। সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় টিকে সবচেয়ে সহজে এবং কম সময়ে শেষ করতে পেরেছেন আপনি।

যদি আপনি নিজেকে ভালো শিক্ষার্থী মনে না ও করেন, এই পদ্ধতি পালন করার পড়ে আপনার পড়ার মত কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। এবার আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, আপনার ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী দের মধ্যে আপনিও একজন। পরবর্তী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।