প্রত্যেক মানুষের জীবনে বন্ধু অপরিহার্য। একথা সবাই মানতে বাধ্য। বন্ধুরা তার বন্ধুর কি না করতে পারে বলুন! বন্ধুর জন্য বন্ধু প্রাণ দিয়ে দিয়েছে এমন নজিরও আছে। আবার বেশ কিছু বিপরীত ঘটনাও আছে। কিন্তু আজ সেসব নয়, আজ শুধু আমরা বন্ধুদের ভাল দিকগুলোর কথাই মনে রাখব।

 

কিন্তু কখনো কি একবারের জন্যও আপনার মনে হয়েছে যে, একজন মানুষের জীবনে ঠিক কতজন বন্ধু থাকতে পারে? থাকতে পারার সংখ্যাটা অবশ্যই অনেক হবে। কারণ, আমরা যখনই কোন নতুন জায়গায় যাই সেখানেই আমরা নতুন কোনো বন্ধু পাতিয়ে ফেলি। তাহলে একবার ভাবুন তো, আমরা যখন স্কুল, কলেজ বা ভার্সিটি তে যাই তখন আমাদের বন্ধুদের সংখ্যা কততে গিয়ে দাঁড়ায়! সেটা একশো বা দু’শো সংখ্যা কেও অতিক্রম করে যেতে পারে খুব সহজেই। অবিশ্বাস্য লাগছে, তাই নয় কি? হ্যাঁ, সত্যিই অবাক করার বিষয় বটে। আরও অবাক করার বিষয় হচ্ছে এযাবতকালের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের বন্ধু সংখ্যা। সেটার সংখ্যা আর উল্লেখ নাই বা করলাম এখানে। আপনিই একটি আন্দাজ করে নিন।

 

কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এরা কি সত্যিই আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী? বন্ধু মানেই কিন্তু শুভাকাঙ্ক্ষী। বন্ধু মানেই হচ্ছে আপনি তাকে আপনার পাশে পাবেন সর্বদা। সর্বদা বলতে আবার সারা দিন-রাত তাকে আপনার সাথে বেঁধে রাখবেন তা কিন্তু নয়। সে আপনার বিপদে-আপদে, আপনি তার বিপদে-আপদে, সে আপনার সুখের সময়, আপনি তার সুখের সময় একে অপরের পাশে থাকবেন, তবেই তো আপনারা বন্ধু।

 

এবার তাহলে একটিবার গুনে দেখুন তো, আপনার এমন বন্ধু ঠিক কয়জন আছে? নিশ্চয় সেটা হাতে গোনা কয়েকজনে নেমে এসেছে, তাই না? তাহলে এবার ভাবুন, এরা ছাড়া বাকিরা আপনার কি ধরনের বন্ধু?

 

একটি গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে যে, একজন ব্যক্তির জীবনে সর্বোচ্চ পাঁচজন বন্ধু থাকলেই যথেষ্ট।

 

ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী রবিন ডানবার্ম বন্ধুত্বকে বেশ কয়েকটি স্তরে ভাগ করে এনেছেন। সবার প্রথম এবং সবার উপরের স্তরটি হচ্ছে স্বামী/স্ত্রী বা আপনার সবচেয়ে ভাল একজন বন্ধুকে নিয়ে, যাকে বেষ্ট ফ্রেন্ড বলা হয়ে থাকে। ঠিক এর পরের স্তরটি হচ্ছে বাকি চারজন কে নিয়ে। যাদের নিয়ে আপনি বেশ যত্নশীল বা যাদের সাথে আপনি মন খুলে কথা বলতে পারেন। তবে এদের সাথে অবশ্যই আপনাকে সপ্তাহে কমপক্ষে করে হলেও একবার যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেই হবে যাতে করে আপনাদের বন্ধুত্ব টিকে থাকতে পারে।

 

এরপর মনোবিজ্ঞানী রবিন ডানবার্ম যে স্তরগুলোর কথা বলেছেন , সেগুলোতে তালিকা ভুক্ত হওয়া বন্ধুরা হচ্ছে তারা যাদের সাথে আপনি হঠাৎ হঠাৎ বা কখনো কখনো যোগাযোগ করে থাকেন।

 

তবে আপনাকে এটা খেয়াল রাখতে হবে যে, বন্ধুদের সাথে অবশ্যই আপনাকে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে হবে। যত বেশি যোগাযোগ হবে, আপনাদের বন্ধুত্ব তত বেশি ঘনিষ্ঠ হবে। যদি তা না করেন, তাহলে একসময় দেখবেন আপনি একা হয়ে গিয়েছেন। কারণ, আপনার বন্ধুরা ভেবে বসে থাকবেন যে আপনার কাছে তাদের কোনো মূল্য নেই।

 

বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, কোন সম্পর্ক যত বেশি ক্ষীণ হতে থাকবে, আপনি তত বেশি একাকী বোধ করবেন এবং আপনি একসময় হতাশায় ভুগতে শুরু করবেন। এই হতাশা থেকেই কিন্তু মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি ততোধিক বেড়ে যায়।

 

আবার যদি আপনার জীবনে খুব বেশি বন্ধু থাকে, তাহলেও সেটা থেকে হতাশা বেড়ে যাতে পারে বইকি। তার কারণ হচ্ছে, আপনি তখন বুঝতে পারবেন না কে আপনার সত্যিকারের বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষী। আর তখনই আপনি হতাশায় ভুগবেন। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শত শত বা হাজার হাজার বন্ধু না বানিয়ে আপনার চারপাশে এমন কয়েকজন বন্ধু বানান যারা আপনার সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী।

সুত্রঃ আলো