এমন অনেকেই আছেন যারা সারা বছর লেখাপড়ার পিছনে অনেক সময় ব্যয় করেন কিন্তু পরীক্ষার খাতায় তার যথার্থ প্রতিফলন ঘটাতে পারেন না। ফলে কাঙ্খিত ফল লাভে ব্যর্থ হন। এটা খুব হতাশাজনক। আপনি যতই পড়ালেখা করেন বা জানেন তার প্রমান  পরীক্ষার খাতায় দিতে হবে।

আপনি অনেক কিছু জানেন কিন্তু পরীক্ষার সময় ঘাবড়ে যান কিংবা অনেকে পরীক্ষার খাতাটিকে খুব আকর্ষনীয় ভাবে পরীক্ষককের সামনে উপস্থাপনের নিয়ম গুলো জানেন না। এই লেখার মাধ্যমে কিছু টিপস উপসথাপন করছি যা, সকলের কাজে লাগবে।

পরীক্ষার সময় একটুও না ঘাবড়িয়ে নিজেকে খুব শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। ভাবতে আর দশটা কাজের মত পরীক্ষাও একটা সাধারণ কাজ। সুযোগ থাকলে এক বোতল পানি সাথে রাখা যেতে পারে। মাঝে মাঝে একটু গলা ভিজিয়ে নিলে শরীর ও মন সবল ও সতেজ থাকে। মনোসংযোগ ঠিক রাখতে হবে।

 

উত্তর পত্র হাতে পাওয়ার পর অত্যন্ত সাবধানতা এবং পরিচ্ছন্নতার সাথে কালো কালির বলপেন দিয়ে সকল তথ্য ভরাট করতে হবে। পরীক্ষক কতৃক পূরনীয় ঘরে কোনো কিছু লেখা যাবে ন। এরপর সুন্দর করে সম্পূর্ন উত্তর পত্রটিতে উপরে ও বাম পাশে এক ইঞ্চি পরিমান ফাঁকা রেখে মার্জিন দিতে হবে। কখনো বক্স বা স্কেলিং করা যাবে না।

এতে লেখার জায়গা কমে যায়। মার্জিনে নীল কালি ব্যবহার করলে উত্তর পত্রটা আকর্ষনীয় হয়। উত্তর পত্রে কালো, নীল এবং দরকার হলে পেন্সিল ব্যবহার করতে হবে।  কিন্তু কখনই সবুজ, বেগুনী, গোলাপী বা অন্য কোনো রং ব্যবহর করা যাবে না।

প্রশ্ন পত্র হাতে পাওয়ার পর সমগ্র প্রশ্ন পত্রটি ভালভাবে পড়ে নিতে হবে। যে প্রশ্নের উত্তর/ সমাধান সবচেয়ে ভাল জানা আছে সেই প্রশ্ন দিয়ে লেখা শুরু রতে হবে। তবে ধারাবাহিক ভাবে উত্তর গুলো দিতে পারলে ভাল য়। এতে উত্তর পত্র মূল্যায়নে সুবিধা হয়। সময়ের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে শুরু থেকেই।

কোন একটি উত্তর লিখতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা যবে না। তাহলে একটি প্রশ্নের উত্তর হয়তো লেখাই যাবে না অথবা ছোট করে লিখতে হবে। উত্তর সবসময় যথার্থ লিখতে হবে। অতিরিক্ত বড় অথবা খুব ছোট লেখা যাবে না। জ্ঞান মূলক প্রশ্নের উত্তর ছোট লেখাই বাঞ্ছনীয়। উত্তর পত্রে অপ্রাসঙ্গীক কিছু লেখা যাবে ন। উত্তর পত্রে অপ্রাসঙ্গীক কিছু লিখলে পরীক্ষক বিরক্ত হন। চেষ্টা করতে হবে সব প্রশ্নের উত্তর লেখার।

যথাসম্ভব সর্বোচ্চ গতিতে লিখতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে হাতের লেখাটাও যেন সুন্দর হয়। লেখা খারাপ হলে পরীক্ষককের পড়তে অসুবিধা হয়। ফলে পরীক্ষক বিরক্ত হবেন এবং মার্ক কমিয়ে দেবে। অক্ষর গুলো যেন অতিরিক্ত বড় বা ছোট না হয়, সব একই রকম হয়। দুটো লাইন বা প্যারার মাঝের ফাঁকা অংশ গুলোও যেন মানান সই মাপের হয়।

সাধারণ বা অফিসিয়াল চিঠি পত্র লেখার সময় উত্তর পত্রের বাম পাশের পৃষ্ঠা থেকে লেখা শুরু করা ভাল। এতে করে দুই পৃষ্ঠায় শেষ করে দেওয়া যায়। নতুন প্রশ্নের উত্তর নতুন পৃষ্ঠা থেকে শুরু করার চেষ্টা করতে হবে। তবে সৃজনশীলের গুচ্ছ প্রশ্নের উত্তর লেখর সময় এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। অসম্পূর্ন উত্তরের ক্ষেত্রে ইংরেজীতে to be continued এবং বাংলয় অপর পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য (অ. পৃ. দ্র.) লিখলে ভাল হয়।

পয়েন্ট, কোটেশন, সংজ্ঞা, উদাহরণ ইত্যাদি নীল কালি দিয়ে লিখে নীল কালি দিয়ে আন্ডার লাইন করতে হবে। ফলে বিষয়টি পরীক্ষকের সহজেই দৃষ্টিগোচর হয় এবং তিনি  বিষয়টি সহজে বুঝতে পারেন।

অতিরিক্ত উত্তর পত্র নিলে প্রথমেই তার নম্বরটি  মূল খাতার যথস্থানে লিখতে হবে । পরে লেখর কথা আর মনে নাও থাকতে পারে। অতিরিক্ত উত্তর পত্রের উপরে এবং বাম পাশে মার্জিন দিতে হবে। তবে সময় না থাকলে ভাঁজ দেওয়া যেতে পারে।

জ্যামিতিক অঙ্কন, চিত্র, মানচিত্রের প্রয়োজন পড়লে অবশ্যই তা দিতে হবে। এই গুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গণিত, বিজ্ঞান ও  ভূগোলে প্রয়োজন হয়।

মার্জিনের বাইরে কোন লেখা যাবে না। প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর, দাঁড়ি, কমা অথবা fullstop কোন কিছুই মার্জিনের বাইরে লেখা যাবে না।

এমন অনেক প্রশ্ন থাকে যেগুলো শর্ত সাপেক্ষ কিংবা শব্দ নির্ধারিত। যে প্রশ্নটি যেমন তার উত্তরও ঠিক তেমন হবে। যেমন-কোনো paragraph বা essay যদি শব্দ  নির্ধারিত থাকে তাহলে paragraph বা essay টি ঐ নির্ধারিত শব্দের মধ্যে শেষ করতে হবে। এর অর্থ এই নয় যে পরীক্ষার হলে গুনে গুনে লিখতে হবে। আগে থেকে বাসায় লিখে গুণে একটা ধারনা রাখতে হবে।

খাতার ভিতর অযাথা কটাাটি করা যাবে না। এতে করে খাতার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। খাতার সৌন্দর্য পরীক্ষককের মনোযোগ আকর্ষন করে।

খাতায় উত্তর লেখার সময় বানানের ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। অনেকের ধারনা বানন কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু ধারনাটি একেবারেই ঠিক নয়।

উচ্চতর দক্ষতা মূলক প্রশ্নের উত্তর সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠা হতে পারে। এর বেশি লিখতে গেলে অনেক সময় সময় সঙ্কট হতে পারে।

বাংলা বা ইংরেজী রচনা সব প্রশ্নের  শেষে লেখাই উত্তম। শূণ্যস্থান পূরনের ক্ষেত্রে passages টা খাতায় লিখে নিলে ভাল হয়। শূণ্যস্থান গুলোর নিচে নীল কালি দিয়ে দাগ টেনে দিতে হবে যাতে সহজে পরীক্ষকের চোখে পড়ে।।

যদি কখনও ছক আঁকতে হয় তাহলে নীল কালি দিয়ে ছক আঁকতে হবে এবং ছকের ভিতরে কাল কালি দিয়ে লিখতে হবে। এতে ছকটি আরও স্পষ্ট হবে।

যেকোন চিত্র পেন্সিল দিয়ে আঁকা ভাল। চিত্র গুলো ফ্রিহ্যান্ডে আঁকার চেষ্টা করতে হবে।

জেল পেন ব্যবহার করা যাবে না।  জেল পেন দিয়ে লিখলে অন্য পৃষ্ঠাতে দাগ পড়ে এবং নষ্ট হয়ে যায়।

ভুলবশত একটি পৃষ্ঠা রেখে অন্য পৃষ্ঠা থেকে লেখা শুরু করলে ফাঁকা পৃষ্ঠাটিতে একটি দাগ টেনে দিতে হবে।

সবশেষে লেখার পর একটু রিভিশন দিতে হবে। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজীর ক্ষেত্রে এটা খুবই জরুরী।

—————————————————————————————————-

তথ্য সূত্র:

Prothom Alo