ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগজনিত বুদ্ধিমত্তা বলতে আসলে কি বোঝায়? একটি উদাহরণ দিয়েই শুরু করা যাক তাহলে। ধরুন, আপনি একটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। আপনার অধীনে অনেক মানুষ কাজ করছে। এর অর্থ হল আপনি একজন লীডার বা নেতা। সুতরাং, একজন নেতা হিসেবে দলের অন্যদের কাঁধে কাজ চাপিয়ে দিয়েই আপনার কর্তব্য শেষ হয়ে যাবে না।

বরং, তাদের আবেগ বা মনের কথাগুলো বোঝার ক্ষমতাও আপনাকে রাখতে হবে। সকলের চাহিদা, কর্মের উপায় ও স্বাচ্ছন্দ্য, তাদের অপছন্দ ইত্যাদি অনুধাবনের ক্ষমতা আপনাকে অর্জন করতেই হবে। তখনই আপনি একজন সফল নেতা হিসেবে সকলের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন; আপনার দলের কাছে একজন পথ প্রদর্শক নিজেকে তুলে ধরতে পারবেন।

অন্যের মনোভাব বোঝার জন্য ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগজনিত বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করতে হয়।

একটু বইয়ের ভাষায় বলতে গেলে, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগজনিত বুদ্ধিমত্তা হচ্ছে নিজের আবেগ বা মনোভাবের পাশাপাশি অন্যেরটা বুঝতে পারার ক্ষমতা। এর মধ্যে সাধারণত তিনটি দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়:

১। আবেগজনিত সচেতনতা; ২। আবেগ ব্যবহার করে তা বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সমাধান; এবং ৩। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে নিজেকে এবং অন্যদের উৎসাহিত করা।

আপনি কি জানেন, আপনার এই ইন্টেলিজেন্স কতটুকু? একেকজন মানুষের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স ঠিক কতটুকু পরিমাণে থাকে তা নির্ণয়ের অনেক কৌশল বা পদ্ধতি বের করা হয়েছে। কিন্তু কোনোটিই পুরোপুরিভাবে তা নির্ণয় করতে পারে না। কারণ, এগুলো মানুষের পারিপার্শ্বিক এবং মানসিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

কিন্তু তারপরও কিছু কৌশলের মাধ্যমে আপনি আপনার আবেগের বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। চারটি ধাপের অধীনে কিছু প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে আপনি নিজের আবেগের মাত্রা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এক থেকে সাতের ভিতর নিজেকে নাম্বার দিন।

নিজের আবেগ বোঝার চেষ্টা করুন এবং তা প্রকাশ করুন:

১। কোনো একটি বিষয় নিয়ে আমি কেন ভাবছি তা আমি জানি।

২। নিজের আবেগ নিয়ে আমার ভাল ধারণা আছে।

৩। আমি বুঝতে পারি যে আমি কি ভাবছি।

৪। আমি জানি আমি কখন খুশি বা অখুশি হই।

আমার চারপাশের মানুষের আবেগ আমি বুঝতে পারি:

৫। আমার বন্ধুদের আবেগ সবসময় তাদের আচার আচরণ থেকে আমি বুঝতে পারি।

৬। অন্যের আবেগ বোঝার ক্ষেত্রে আমি বেশ ভাল পর্যবেক্ষক।

৭। অন্যদের আবেগে আমি সংবেদনশীল।

নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ:

৮। আমি সবসময় লক্ষ্য স্থির করে তা অর্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।

৯। আমি নিজেকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করি।

১০। আমি একজন স্ব-প্রণোদিত ব্যক্তি।

১১। কোন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে সবসময় নিজেকে উৎসাহ দেই।

কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আমি আমার আবেগ ব্যবহার করি:

১২। আমি আমার রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

১৩। আমি যুক্তি দিয়ে কাজ করতে পারি।

১৪। যখন আমি রেগে যাই, তখন খুব দ্রুত নিজেকে শান্ত করতে পারি।

১৫।আমি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

নিজেকে এই প্রশ্ন গুলো করুন এবং আপনার উত্তরের উপর ভিত্তি করে নাম্বার দিন। দেখুন আপনি কোন ক্ষেত্রে বেশি সক্ষম এবং কোন ক্ষেত্রে দুর্বল। দুর্বলতা গুলোকে চিহ্নিত করে শুধরানোর চেষ্টা করুন।

অন্যের আবেগ বোঝার আগে অবশ্যই নিজের আবেগ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল হতে হবে আপনাকে। কারণ যতক্ষণ না আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন, ততক্ষণ অন্যকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। আর আপনি যখন নেতৃত্তের পর্যায়ে থাকবেন, তখন আপনাকে অবশ্যই অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখতে হবে। তা না হলে আপনি অন্যদের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবেন না। তাই নিজের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের চর্চা ও বিকাশ ঘটাতে সচেষ্ট হয়ে উঠুন।

তথ্যসুত্র

https://www.psychologytoday.com/blog/fulfillment-any-age/201302/unlock-your-emotional-genius