ইতিবাচক আর নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে একটি উদাহরণ সবার কাছেই খুব পরিচিত। বলা হচ্ছে অর্ধেক পানি পূর্ণ সেই গ্লাসের কথা। যারা বলবেন গ্লাসটি অর্ধেক খালি, তারা নেতিবাচক মনোভাবের অধিকারী। আর যারা বলবেন গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ তারা ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী।

মানুষ মাত্রই ইতবাচক আর নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে তৈরি। তবে অনেক ক্ষেত্রেই নেতিবাচক হবার প্রবণতাটি বেশ চোখে পড়ার মত। কিন্তু নেতিবাচকতার হবার ফলাফলটি যে খুব একটা সুখকর না, তা হয়তো জানা নেই সবার। ছোট্ট একটি উদাহরণেই আপনাকে বুঝিয়ে দেয়া যাক। আপনি যদি নেতিবাচক মনোভাবের অধিকারী হোন, তাহলে আপনার মনে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি খুঁজে পাবেন না। সবসময় মনে আফসোসের রেষ থেকে যাবে। আর তা থেকে উৎপন্ন হতে পারে রাগ। সুতরাং দেখতেই পাচ্ছেন, শুধু একটুখানি নেতিবাচক মনোভাবের কারণে আপনি কোথায় গিয়ে ঠেকছেন!

আপনিই একমাত্র নিজের সম্পর্কে সঠিকভাবে বলতে পারেন যে, আপনি ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী কিনা। কারণ আপনি যখন কোনো একটি কাজে মন দিচ্ছেন, ঠিক তখন আপনি সেই নির্দিষ্ট কাজ নিয়ে মনে মনে কি ভাবছেন তা শুধু আপনিই জানেন। আপনি যদি ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য শুভ কামনা। তবে আপনি যদি নেতিবাচিক মনোভাবের অধিকারী হয়ে থাকেন এবং এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়ের সন্ধানে আছেন তাহলে আজকের আলোচনা শুধুই আপনার জন্য।

নেতিবাচক মনোভাব থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজে থেকেই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সেই পদক্ষেপের সূচনাপর্বে চলুন আমরা আপনাকে কিছুটা পথ এগিয়ে নিয়ে যাই।

আপনার বর্তমান মনোভাব মূল্যায়ন করুন

প্রথমেই নিজের মনোভাব কেমন তা নির্ণয় করার চেষ্টা করুন। কিছুটা শান্ত হয়ে বসুন। ভাবুন, কোনো একটি বিষয়ে প্রথমেই আপনার মনে কেমন ধারণা জন্মাচ্ছে। ইতিবাচক এবং নেতিবাচকের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করুন। এ ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো হয়, বিগত সাত দিনের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ভাবুন, আপনি কি সত্যিই ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী? যদি বুঝতে পারেন যে, এর মধ্যে নেতিবাচক মনোভাবের ছায়া রয়েছে তাহলে আপনার ভাবা উচিৎ কিভাবে এর থেকে দূরে সরে থাকা যায়।

নেতিবাচক দিকগুলো চিহ্নিত করুন

কোন কোন পরিস্থিতিতে এবং কিভাবে আপনার নেতিবাচক দিকগুলো প্রকাশ পাচ্ছে তা খুঁজে বের করুন। সেগুলোর একটা পরিমাপ করে ফেলুন। মানে নেতিবাচক দিকগুলো কতটা গভীর তা চিহ্নিত করুন। এর উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন

আপনি যেমন কখনো কখনো অন্যকে অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন, ঠিক তেমনিই নিজেকে অনুপ্রেরণা দেয়ার চেষ্টা করুন। কিভাবে নেতিবাচক দিকগুলোকে সরিয়ে রেখে ইতিবাচক দিকগুলোকে সামনে নিয়ে আসবেন তা বের করুন। মনে মনে ভাবুন, এতদিন আপনার মনে যেসব নেতিবাচক দিকগুলো ছিলো, আজ এই মুহূর্তে সেগুলোকে আপনি ছেঁটে ফেলে দিয়েছেন। এখন শুধুই সামনে এগিয়ে যাবার সময়।

আপনার চিন্তাগুলোকে গুছিয়ে নিন

গুছিয়ে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোনো একটি কাজ যত গুছিয়ে করবেন, সেই কাজের প্রতি আপনার তত বেশি আগ্রহ সৃষ্টি হবে। আর আগ্রহ সৃষ্টি হলেই মানুষের মনে ইতিবাচক মনোভাব জেগে ওঠে। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনো কাজ হাতে নেবেন না। আর যদি কোনোভাবে নিতেই হয়, তাহলে অল্প সময়ের জন্য হলেও কিভাবে কাজটি করলে সেটি আপনার এবং অন্যদের জন্য ইতিবাচক হবে তা নিয়ে ভাবার চেষ্টা করুন।

ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন

যাদের মনোভাব ইতিবাচক থাকে, তাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু ভালো অভ্যাসও থেকে থাকে। যেমন ধরুন, কারো কোনো সাফল্যে তাকে সাগ্রহে অভিনন্দন দেয়া। কিন্তু যাদের মনোভাব সর্বদা নেতিবাচক থাকে, তারা নিজের অজান্তেই অন্যকে এই অভিনন্দনটুকু করতে ভুলে যান। তাই এধরণের ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেখবেন, নিজের মনে এক ধরণের শান্তির ছোঁয়া পাবেন।

জীবনে উন্নতি করতে হলে, সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে হলে অবশ্যই ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী হতে হবে। তা না হলে নিজেই নিজের ফাঁদে পড়ে যাবেন। যা থেকে উঠে দাঁড়ানো বেশ কষ্টকর।

 

 

https://www.success.com/blog/attitude-is-everything-heres-how-to-keep-it-positive