আমাদের এই জীবনটিকে একেবারেই একপেশে এবং একঘেয়ে মনে হয়। বিশেষ করে যারা কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যান, তাদের কাছে প্রতিদিনই একই রকম মনে হতে পারে। অনেকটা সাদাকালো টিভির মত। এই একঘেয়েমির কারনেই আমরা কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। তখনই মনে চলে আসে কর্মক্ষেত্রের প্রতি অনীহা। হারিয়ে ফেলি নিজের দক্ষতা। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলেও তো হবে না। আমাদের কাজ করতেই হবে। তাই খানিকটা জোরজবরদস্তি করে এভাবেই কাটিয়ে দিই সারাটা জীবন। কিন্তু তাতে আমরা কতটুকু সফল হতে পারি?

আমরা যদি একটু অন্যভাবে, কিছুটা কৌশল অবলম্বন করে প্রতিটা দিন সুন্দর করে কাটিয়ে দিতে পারি, তাহলে কেমন হয়? আর যাই হোক না কেন, আমরা অন্তত ক্লান্তিকর আর একঘেয়েমি কাটিয়ে উঠতে পারবো। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক তেমনই কিছু কৌশল।

অফিসে একটু তাড়াতাড়ি চলে যান

সকাল হলেই শুরু হয়ে যায় অফিসে যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি। এত হুড়োহুড়ি করেও কিন্তু সবসময় ঠিক ঠিক সময়ে অফিসে গিয়ে উপস্থিত হওয়া যায় না। তখন হয়তো বস কিছু বলে বসেন। আর সকাল সকাল বসের বকা খেয়ে সারাদিনটাই যেন হয়ে যায় মাটি। এসব থেকে বাঁচার জন্য সবার আগে যা প্রয়োজন তা হল অফিসে একটু তাড়াতাড়ি গিয়ে পৌঁছানো। অন্ততপক্ষে যাতে বসের আগে পৌঁছানো যায়। শুধু এই কাজটুকু করে দেখুন, দেখবেন পুরোটা দিন বেশ ফুরফুরে লাগবে।

মনকে কেন্দ্রীভূত করুন

আমাদের চারপাশে সারাক্ষণ চলছে বিশৃঙ্খলতা। বলতে গেলে আমরা বিশৃঙ্খলতার মধ্যেই কোনোভাবে বেঁচে আছি। এই বিশৃঙ্খলতার মধ্যে নিজের মনকে এক জায়গায় ধরে রাখাই যেন সবচেয়ে কঠিন কাজ। আর একারণেই আমরা কোনো একটি কাজে ঠিকভাবে মন দিতে পারি না। কিন্তু যে কোনো কাজে সফলতা পেতে হলে সেই কাজের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ একান্তই আবশ্যকীয়। যত বিশৃঙ্খলতার মধ্যেই থাকুন না কেন, যখন যে কাজ করবেন, সে কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে। মনকে এক জায়গায় স্থির রাখতে হবে। তাহলেই আপনি আপনার কাজে সফল হতে পারবেন।

একটানা কাজ না করে বিরতি দিয়ে কাজ করুন

আমরা এমন অনেকেই আছি, যারা একটি কাজ শুরু করলে সেটি শেষ না দিয়ে উঠতেই চাই না। আমরা মনে করি, এতে কাজের দৃঢ়তা বজায় থাকে। কিন্তু কথাটি আসলে সত্যি নয়। একটানা কাজ করতে থাকলে আমাদের মস্তিষ্ক শক্তি হারিয়ে ফেলে। তখন সহজ কিছু জিনিসও মস্তিষ্ক হুট করে ধরতে পারে না। কাজ হয়ে পড়ে দীর্ঘস্থায়ী। তাই তখন তার জন্য চাই কিছু বিশ্রাম। সামান্য বিশ্রামেই মস্তিষ্ক আবার চাঙ্গা হয়ে পুরোদমে কাজে নেমে পড়তে পারবে।

অফিসের টেবিলে বসে দুপুরের খাবার খাবেন না

সকালে অফিসে প্রবেশের পর থেকে ছুটির আগ পর্যন্ত আপনার একমাত্র সঙ্গিটি হচ্ছে আপনার টেবিলটি। এই টেবিলেই অপেক্ষা করে আপনার উপর বর্তিত অসংখ্য কাজ। আর তখনই এই টেবিলকে আর ভালো লাগে না। এই ভালো না লাগা জিনিসটির সাথেই আপনাকে কাটিয়ে দিতে হচ্ছে জীবনের অনেকটুকু সময়। ইচ্ছে করলেও এটি থেকে দূরে সরে থাকা যায় না। অথচ, সহজ একটি কৌশলেই আপনি কিছুটা সময়ের জন্য এটিকে দূরে রাখতে পারেন। আর সেটি হচ্ছে আপনার দুপুরের খাবারের সময়। দুপুরের খাবারটি নিজের টেবিলে বসে না খেয়ে ক্যান্টিনে বা লাঞ্চ রুমে গিয়ে খেয়ে নিন। এতে করে কিছুটা সময়ের জন্য নতুন একটি পরিবেশের ছোঁয়াও পেয়ে যাবেন।

দিন শেষে সারাদিনের একটি সারমর্ম লিখে ফেলুন

ঘুমোতে যাবার আগে সারাদিন কি ঘটলো, আপনি কি কি করলেন, এগুলো নিয়ে ছোট্ট একটি ডায়েরি লিখে ফেলুন। এতে করে সেদিনের ঘটে যাওয়া ছোট ছোট ভুলগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো শুধরে নিতে পারবেন।

এই ছোট ছোট কৌশলগুলো যদি রপ্ত করতে পারেন, তাহলে দেখবেন আপনার দিনটি আগের থেকে কতটা ফুরফুরে হয়ে গিয়েছে।