সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল হওয়া ইতিবাচকতার পরিচায়ক; অন্যের চাহিদা, অনুভূতি, বক্তব্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠতে সংবেদনশীলতার প্রয়োজন। কিন্তু অতি সংবেদনশীলতা একজনের জন্য মানসিক এমন কি শারীরিক ক্ষতিও বয়ে আনতে পারে।

সংবেদনশীলতার মধ্য দিয়ে একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে। কিন্তু জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত সংবেদনশীলতা একজন মানুষকে নেতিবাচক করে তুলতে পারে। পারিবারিক, বন্ধুত্ব কিম্বা প্রেম, কর্মক্ষেত্রে, ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে সকল বিষয়ে অতীব সংবেদশীলতা বা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে থাকাটা সার্বিকভাবে একটি বিরূপ প্রভাব সৃষ্টিকারী প্রবৃত্তি। অতি সংবেদনশীল মানুষ কখনই কাউরো সাথে সহজে মেলামেশা করতে পারে না কেননা নানা প্রকারের নেতিবাচক বোধ যেমনঃ লজ্জা, ভয়, অভিমান, উদ্বেগ ইত্যাদি মনে ভীড় করে থাকে। একজন অতীব সংবেদনশীল ব্যক্তি সাধারণত গভীর অনুভব এবং আবেগ দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকেন।

 

আসুন জেনে নেই এমন কিছু দিক সম্পর্কে।

১। অন্যরাম কি ভাবছে তা নিয়ে প্রায়শই চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন থাকে। সর্বদা অন্যে কি ভাবল সেটাই মাথায় ঘুরে।

২। যেকোন ঘটনার কারণ বা দায় ব্যক্তিগতভাবে  কেও কোন কিছুর বিষয়ে নেতিবাচক কিছু মন্তব্য করলে সেটাই নিজের দিকে টেনে নেয়া।

৩। ছোটখাটো পরিস্থিতিতেও ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পরেন।

৪। অন্যদের সাথে কোনোও কর্মে অগ্রসর হবার সময় প্রায়ই নেতিবাচক প্রত্যাশাগুলি কাজ করে (যেমন, “তারা আমাকে পছন্দ করবে না”,”তারা না জানি কি ভাববে”)।

৫। অন্যদের সাথে যোগাযোগ করার সময় প্রায়ই নেতিবাচক আবেগ অনুভূত হয়। যেমন, চাপ, উদ্বেগ ইত্যাদি কাজ করে।

৬। অন্যান্য লোকেদের সাথে তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র অপ্রীতিকরতার কারণেই সব শেষ করে ফেলা। নাহয় সব শেষ হয়ে গেল এমন ধারনা করা।

৭। আঘাত এবং হতাশা সহজেই নিজের মাঝে অনুভব করে এবং তা প্রবলরূপে ভাবিত করে।

৮। শারীরিক, রিলেশনাল, সামাজিক, কাজ, আর্থিক, বা অন্য পরিস্থিতিতে প্রায়ই অন্যদের সাথে আত্মনির্ভরশীলতা কাজ করে। এছাড়াও, নেতিবাচক সামাজিক তুলনা থেকে অসন্তুষ্ট অভিজ্ঞতাও কাজ করে।

৯। প্রায়ই নেতিবাচক অনুভূতি নিজের মধ্যে গোপন করা। বিশ্বাস করে তারা খুব শক্তিশালী, অবাধ্য, বিব্রতকর,কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যক্তি নিজের ভিতরে অনেক নেতিবাচক ধারনা আর আবেগ ধরে রাখে।

১১। প্রায়ই অন্যদের সঙ্গে নেতিবাচক আবেগ নিয়ে আলোচনা করে থাকে, কারণ তাদের জীবনের অনেক নেতিবাচক ঘটনা রয়েছে। সেগুলোর উপর ভর করেই নিজেও সামনে অগ্রসর হয়না,অন্যদেরও নিরুতসাহিত করে।

১১। কঠিন সময় পার করে যখন তার সম্পর্কিত সমালোচনা করা হয়। সসমালোচনা সহজ ভাবে নিতে পারেনা। এমনকি যখন যুক্তিসঙ্গত এবং গঠনমূলক সমালোচন করা হয় তখনও।

১২। নিজের মতের উপরই অটল থাকে। নিজের ভুল ধ্যান ধারনা যদি ভুল প্রমাণিত হয় তবুও মনে মনে সেটার উপরই ভর করে থাকে।

১৩। বাস্তব বা অনুভূতির দিক থেকে সর্বদা উত্তেজিত থাকে। সামান্য অনুভূতি গুলিকে খুব বড় করে দেখে আর সেসবের উপর  মাত্রাতিরিক্ত আচরণ করে।

১৪। প্রায়ই গ্রুপ বা সম্মিলিত কোনোও পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেনা। বরং এসব পরিস্থিতিতে বিরক্তিকর অনুভূতি হয়, অস্বস্তিকর অনুভব করে।

১৫। রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এরা খুব বেশি আবেগী আর মানসিক ভাবে উত্তেজনাকর হয়। এদের মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার সময় অনেক আত্নসচেতনতা কাজ করে।